বাড়িআন্তর্জাতিকশর্তের ব্যাপারে অনড় ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সদিচ্ছা থাকলেও বিশ্বাস নেই!

শর্তের ব্যাপারে অনড় ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সদিচ্ছা থাকলেও বিশ্বাস নেই!

আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোহরে খারাজমি জানিয়েছেন, ইরান আত্মবিশ্বাসের সাথে ইসলামাবাদ আলোচনায় প্রবেশ করেছে। এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়াটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলেও জানান তিনি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প গত ৬ মার্চ পর্যন্তও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনার টেবিলে বসেছে।
খারাজমি বলেন, ইরান তার শর্তগুলোর ব্যাপারে অনড়। এবং অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নেওয়া হবে, হয়ত এই পর্বে নয়, কিন্তু পরবর্তী পর্বগুলোতে।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে খারাজমি বলেন, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের দর কষাকষির মূল ভিত্তি এবং সর্বোচ্চ নেতা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন-এটি সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান এই প্রণালীকে যুদ্ধের খরচ পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে দেখে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি প্রতিনিধিদল আত্মবিশ্বাসী, তবে তারা মার্কিন প্রতিপক্ষকে বিশ্বাস করছে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু কোনো বিশ্বাস নেই। মার্কিনিরা যদি একটি ‘প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত’ থাকে, তবে ইরানও প্রস্তুত হতে পারে।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার অভিজ্ঞতা সব সময় ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: আল জাজিরা)

যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শনিবার ১১ এপ্রিল থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধিদলে যারা আছেন:
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ- এর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন-
আব্বাস আরাগচি: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আলী আকবর আহমাদিয়ান: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি।
আবদোল নাসের হেম্মাতি: ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
এছাড়াও এতে নিরাপত্তা, রাজনীতি, সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটির সদস্যরা এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও শর্ত:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর নেতৃত্বে একটি দল এই আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকছেন।
ইরানের শর্ত: আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে ইরান দুটি শর্ত দিয়েছে- লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদগুলো ছেড়ে দেওয়া।
মূল এজেন্ডা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে ৫ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়া এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments