বাড়িআন্তর্জাতিকইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি! মধ্যস্থতকারী রাষ্ট্রের দাবী স্থায়ী সমাধান প্রচেষ্টায় আলোচনা চলবে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি! মধ্যস্থতকারী রাষ্ট্রের দাবী স্থায়ী সমাধান প্রচেষ্টায় আলোচনা চলবে

আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রথম ধাপ গভীর রাতেও চলছে। মধ্যস্থতকারী পাকিস্তানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আল– জাজিরা এ কথা জানিয়েছে। সূত্র জানায়, প্রথম দফার আলোচনা এ পর্যায়ে দুই প্রতিনিধি দল লিখিত বার্তা বিনিময় করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আগামীকাল রোববারও চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি প্রচেষ্টা চলছে যাতে, এই আলোচনা আরো এক দিন চালিয়ে যায় দুই পক্ষ। এতে এমন কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে যা দুই পক্ষকে চুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই পক্ষ সেই পর্যায়ে পৌঁছেনি। পাকিস্তানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অংশ নেয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের পোস্টে তিনি লিখেন, ইরানি আলোচকরা ‘সাহসিকতার সঙ্গে’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পোস্টে পেজেশকিয়ান আরো লিখেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণের সেবায় আমাদের কাজ থেমে থাকবে না। আলোচনার ফল যাই হোক না কেন, সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক হামলার জন্য বারবার চাপ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
এক সাক্ষাৎকারে কেরি জানান, তিনি নিজে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘তিনি চেয়েছিলেন আমরা হামলা চালাই।’
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দাবি, নেতানিয়াহু এ প্রস্তাব সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জো বাইডেন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছেও উপস্থাপন করেছিলেন কিন্ত এরা সবাই এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানান, তবে একমাত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন।
কেরি বলেন, ‘একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি নেতানিয়াহুর সম্মত হয়েছেন, তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
জন কেরি আরো জানান, নেতানিয়াহু একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। যেখানে বলা হয়েছিল এ হামলার মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া, শাসন পরিবর্তন ঘটানো ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যুদ্ধবিরতি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এ আলোচনা চলছে। এ বৈঠককে ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল- জাজিরা বলছে, পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা একই কক্ষে বসে আলোচনা করছেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও সরাসরি আলোচনার কথা বলা হয়েছে। এর আগে দুই পক্ষ পৃথকভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদ জানিয়েছেন, আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে এসেছে, যার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়গুলোও ছিল। তবে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু সূত্রের দাবি, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখন দক্ষিণ লেবাননে সীমিত থাকতে পারে এবং বৈরুত এলাকায় আর হামলা না-ও হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা আসেনি।
ইরানি সূত্রের বরাতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, তথ্যগুলো এখনো প্রাথমিক, আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি। সবকিছুই বন্ধ দরজার আড়ালে হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে তথ্য বাইরে আসছে।
হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে দুইটি চীনা সুপারট্যাঙ্কার। শিপিং ও ডাটা সরবরাহকারী সংস্থা এলএসইজি–এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি হলো কসপার্ল লেক ও হে রং হাই। দুটিই খুব বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি)।
জাহাজ দুটি চীনের বৃহৎ রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধন সংস্থা সিনোপেক-এর ট্রেডিং ইউনিট ইউনিপেক দ্বারা চার্টার করা ছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজ দুটি ‘হরমুজ প্যাসেজ ট্রায়াল অ্যাঙ্কোরেজ’ নামের একটি রুট ব্যবহার করে ইরানের লারাক দ্বীপ এড়িয়ে চলাচল করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালি ‘পরিষ্কার করার’ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে।
তার ভাষায়, বর্তমানে ইরানের একমাত্র হুমকি সমুদ্রে থাকা মাইন বা মাইন- সংক্রান্ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সহায়তার জন্য হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করার কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানি। এসব দেশ নিজেরা এ কাজ করার ‘সাহস বা ইচ্ছা দেখাচ্ছে না’, তাই যুক্তরাষ্ট্রই উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। তবে আলোচনাটি সরাসরি নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হচ্ছে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আলোচনাটি সরাসরি হয় তাহলে এটি ১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি কূটনৈতিক বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হবে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আগে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবস্থান স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল; মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আর ইরানের পক্ষে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনার আগে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহরাজ শরিফের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন।
পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে,আলোচনার ফলাফল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ নয় বরং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর গুরুত্ব দিলে একটি সমঝোতা সম্ভব।
ইসরায়েল জানিয়েছে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিপুল সংখ্যক ‘সম্পূর্ণ খালি’ জ্বালানী তেলবাহী ট্যাংকার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেগুলো দেশটির তেল ও গ্যাস লোড করবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, বিশ্বের বৃহত্তম কিছু জাহাজসহ বিশাল সংখ্যক সম্পূর্ণ খালি তেলের ট্যাংকার এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসছে। তারা এখান থেকে বিশ্বের সেরা ও ‘সুইটেস্ট’ (লঘু ও নিম্ন সালফারযুক্ত) তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সক্ষমতা এখন অনন্য উচ্চতায় দাবি করে ট্রাম্প লিখেছেন, পরবর্তী শীর্ষ দুটি তেল উৎপাদনকারী দেশের সম্মিলিত মজুতের চেয়েও আমাদের তেলের পরিমাণ বেশি এবং গুণগত মানও অনেক উন্নত। আমরা আপনাদের অপেক্ষায় আছি। এখানে লোডিং হবে দ্রুততম সময়ে!
ইরান তাদের ‘রেডলাইন’ বা শর্তগুলো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের কাছে তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবি এ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের আলোচকরা এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
এছাড়া শর্তের মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য একটি কার্যকর প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং ইরানসহ আঞ্চলিক অন্যান্য এলাকায় ‘দৃশ্যমান ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গটি মূলত অঞ্চলে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর পরিস্থিতিকেও ইঙ্গিত করছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন জরুরি সেবাকর্মীও রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ জেলায় অন্তত তিনটি স্থানে প্রাণঘাতী আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ লেবানিজ। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের একজন সদস্য ও দুইজন প্যারামেডিক রয়েছেন।
জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে লেবানন কর্তৃপক্ষ।।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ডজনখানেকের বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগেই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। ইরান সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানো দেশটির আলোচনায় আগ্রহেরই প্রমাণ, তবে একই সঙ্গে সতর্ক অবস্থানও বহাল থাকবে।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, আমরা সংলাপে বিশ্বাসী এবং যুক্তিবাদী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই তাই ইরানি প্রতিনিধিদল সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ইরান তার ‘সার্বভৌম অধিকার’ নিয়ে কোনো আপস করবে না। আর এ বিষয়ে কোনো ধরনের পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না।
মোহাজেরানি সতর্ক করে বলেন, আলোচনায় অংশ নিলেও তেহরানের ‘ট্রিগারে আঙুল থাকবে’। তার এ বক্তব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে- এমন প্রতিবেদনের সত্যতা নাকচ করেছে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা।
মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, তেহরানের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের সবশেষ বক্তব্যে সেই দাবির সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে।
চলমান আলোচনায় ব্যর্থতা এলে শুধুমাত্র ইসরায়েলকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়মুক্ত করার কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
সরকারি সূত্রের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কিছু পক্ষ ইসরায়েলকে ‘স্বতন্ত্র ও বিঘ্নসৃষ্টিকারী পক্ষ’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
সূত্রটি আরও জানায়, ইসরায়েল আলোচনায় বাধা দিচ্ছেএমন প্রচারণা চালানো হলেও তেহরান ইসরায়েলকে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা কোনো সত্তা হিসেবে দেখে না। বরং আলোচনার ফলপ্রসূ সমাপ্তি না হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মনে করে ইরান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে সফররত প্রতিনিধিদল ।

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় উভয় পক্ষ স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে ১০ দফা দাবিসহ দীর্ঘস্থায়ী শান্তির শর্ত দিয়েছে।

  • মূল পরিস্থিতি ও আলোচনা:
  1. আলোচনার মূল বিষয়: পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদে আলোচনার মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
  2. ইরানের অবস্থান: ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কোনো অস্থায়ী সমাধান নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা ও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড়।
  3. ইরানের দাবি (১০ দফা): এর মধ্যে রয়েছে লেবানন ও গাজায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন ঘাঁটি অপসারণ, হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের ওপর সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
  4. যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, হোয়াইট হাউসের প্রধান শর্ত হলো ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা।
  5. বর্তমান পরিস্থিতি: যদিও উত্তেজনা তীব্র, তবুও উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে পারে।
  • চলমান পরিস্থিতি:
  1. মধ্যস্থতায় পাকিস্তান: পাকিস্তান এই ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার মূল আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া তুরস্ক, মিশর ও ওমানও এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে।
  2. আলোচনার মূল লক্ষ্য: দুই দেশই বর্তমানে একটি “ভঙ্গুর” দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এখন এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা চলছে।
  3. ইরানের ১০ দফা দাবি: ইরান একটি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- ১. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার। ৩. পশ্চিমা সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং স্থায়ীভাবে আর কোনো হামলা হবে না এমন গ্যারান্টি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখা।
  4. যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ভিত্তি হিসেবে দেখলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে। ট্রাম্পের প্রধান শর্ত হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হবে।
  5. বর্তমান অবস্থা: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

যদিও আলোচনায় কিছুটা ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে, তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য ও অবিশ্বাস রয়ে গেছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments