বাড়িআলোচিত সংবাদবাংলাদেশে বাড়ছে হাম আতঙ্ক! দুই মাসে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশে বাড়ছে হাম আতঙ্ক! দুই মাসে ৪৫১ শিশুর মৃত্যু

এম শাহরিয়ার রহমান, বিশেষ প্রতিবেদক: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গে গত দু’মাসে বাংলাদেশে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৩ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছে ১২ শিশু। তাদের মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আট শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ ধরা পড়েছিল।
শুক্রবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গোটা দেশে এখনও পর্যন্ত এক হাজার ১৯২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে। হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর শরীরে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে চার শিশুর মধ্যে। দু’জন ঢাকার, চট্টগ্রাম এবং বরিশালের এক জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে যে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিন জন ঢাকার, তিন জন চট্টগ্রামের এবং এক জন করে শিশুর মৃত্যু রয়েছে ময়মনসিংহ এবং সিলেটে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৩৭৭ শিশুর। হাম শনাক্তের পর মারা গিয়েছে আরও ৭৪ শিশু। সবমিলিয়ে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম এবং হামের উপসর্গে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এ বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ ধরা পড়ে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর মধ্যে। ওই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ শিশুর মধ্যে। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ শিশু। তবে তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে ৩৬ হাজার ৫৫ শিশু।
চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে বাংলাদেশে উত্তরোত্তর আতঙ্ক বাড়ছে। দু’মাসের মধ্যে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।

  • এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় করণীয় ও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
  1. মহামারীর সর্বশেষ পরিসংখ্যানমোট মৃত্যু: ৪৫১ জন (যার মধ্যে নিশ্চিত হামে ৭৪ জন এবং উপসর্গে ৩৭৭ জন)।
  2. আক্রান্তের সংখ্যা: ৬৩ হাজার ২৭ জনেরও বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ
  3. ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: সবচেয়ে বিপর্যস্ত ঢাকা বিভাগ, এরপরই রয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ।
  4. আইসোলেশন: শিশু হামে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ এড়াতে অন্তত ৪-৫ দিন তাকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
  5. পুষ্টি ও তরল খাবার: আক্রান্ত শিশুর শরীরে যেন পানিশূন্যতা (Dehydration) না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, বা ওরস্যালাইন দিতে হবে।
  6. চিকিৎসকের পরামর্শ: উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে না রেখে দ্রুত স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হবে।

দেশের চিকিৎসক সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেল্‌থ অ্যন্ড এনভায়রনমেন্ট’ এই পরিস্থিতির জন্য মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, ইউনূসের সরকার টিকাকরণের বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চায়নি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক এমএইচ ফারুকী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাধারণত ৯ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। আক্রান্ত হলেও মারাত্মক আকার ধারণ করে না। চিকিৎসক ফারুকীর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছিল। আগের সরকারের সময় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুদের ছ’মাস অন্তর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে হামের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

হামের সাধারণ উপসর্গউচ্চ মাত্রার জ্বর (১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি)। সর্দি, হাঁচি এবং শুকনো কাশি। চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা আলোতে অস্বস্তি। কানের পেছনে ও মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লাল ছোপ ছোপ দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় সঠিক সময়ে বয়স ও ডোজ অনুপাতে টিকা। ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা (MR) টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস থেকে ৪ বছর বয়সীদের দ্বিতীয় ডোজ অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments