বাড়িআইন ও আদালতদীর্ঘ ১৮ বছর পর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত (ভিডিও সহ)

দীর্ঘ ১৮ বছর পর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত (ভিডিও সহ)

বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান মি. ইউনুস ক্ষমতায় থাকাবস্তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস তো দুরের কথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস সহ রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য প্রান বিলিয়ে দেওয়া সেই শহীদদের সন্মানে কোনও প্রকার আনুষ্ঠানিকতা সরকারী ভাবে তো আয়োজন হয়ইনি অপরদিকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান তো বাদই দিলাম আমাদের লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া লাল সবুজের পতাকা সহ বাংলাদেশের জাতীয় সংঙ্গীতটিও পর্যন্ত বাজাতে দেওয়া হয়নি। এ বছর আনুমানিক দীর্ঘ ১৮ বছর পর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে মার্চ ২৬ ২০২৬ এর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হলো। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সুসজ্জিত কন্টিনজেন্ট এবং সমরাস্ত্রের মাধ্যমে দেশের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। এদিকে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট দেখতে সকাল থেকে প্যারেড গ্রাউন্ডে জড়ো হন শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী হাজারো দর্শনার্থী। তাদের বসার জন্য প্লাস্টিকের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থীদের অনেকের হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা দেখা যায়।
দীর্ঘ দেড়যুগ পর মহান স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী ও মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়। বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ শুরু হয়। এতে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
ঘোড়ায় চড়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চের সামনে আসেন এবারের মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের অধিনায়ক এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। শুরুতেই উপ-অধিনায়কের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
প্রথমেই মিলিটারি পুলিশের মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইভাবে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধান।
এবারের কুচকাওয়াজে অংশ নেয়- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট-প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাঁজোয়া কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট কন্টিনজেন্টসহ বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট। থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিনজেন্ট। বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কন্টিনজেন্ট ছাড়াও বর্ডার গার্ড, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কন্টিনজেন্ট।
এরইমধ্যে আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ করেন। এরপর শুরু হয় বিমানবাহিনীর মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্ট।সশস্ত্র সালামসহ কুচকাওয়াজের অনুমতির পর রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন অধিনায়ক। একে একে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করে কন্টিনজেন্টগুলো।

  • প্যারেডের মূল আকর্ষণ ও তথ্যাবলী:
  1. বিশেষত্ব: দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর এবং রাষ্ট্রপতির সালাম গ্রহণের মাধ্যমে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
  2. কুচকাওয়াজ পরিদর্শন: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খোলা জিপে করে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
  3. অংশগ্রহণ: বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট, বিএনসিসি, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
  4. ফ্লাইপাস্ট: কুচকাওয়াজ চলাকালীন বিমান বাহিনীর মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শিত হয়।
  5. উপস্থিতি: প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন।
  6. ব্যবস্থাপনা: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে নবম পদাতিক ডিভিশন এই কুচকাওয়াজটি পরিচালনা করে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ১৮ বছরের বিরতির পর এই কুচকাওয়াজ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল, যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments