বাড়ি আইন ও আদালত সকল সদস্য পদত্যাগে জনবল শূন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

সকল সদস্য পদত্যাগে জনবল শূন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

0
19
"জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন"

মোস্তাফিজুর রহমান রুম্মন, ঢাকা রিপোর্টার: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যায়। পদত্যাগের পর তাঁদের পক্ষ থেকে একটি খোলাচিঠি গণমাধ্যমকে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এটি কার্যকর হবে।
বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে করা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ আবার চালু করতে বিল পাস করে সংসদ।
এদিকে পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিদায়ি কমিশনের সদস্য নূর খান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের পদত্যাগের কথা বলা হয়নি। এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছে। যেহেতু তাঁরা আগের অধ্যাদেশের পরই দায়িত্ব পেয়েছিলেন, এখন তা বহাল না হওয়ায় পদত্যাগ করাকেই সমীচীন মনে করেছেন।
অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহীও বলেছেন, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আগের কমিশন আর নেই। তবে কমিশন সদস্যদের ‘খোলাচিঠি’ তিনি পড়েননি বলে জানান।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও ৫ সদস্য পদত্যাগ করায় কমিশন বর্তমানে জনবলশূন্য হয়ে পড়েছে। ৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়। এর ফলে মানবাধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। বৃহস্পতিবার তারা রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দেন বলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমান সন্ধ্যায় বাসস’কে জানান।
পদত্যাগ করা অন্য সদস্যরা হলেন, বর্তমান কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা, সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম, সদস্য কংজরী চৌধুরী, সদস্য ড.বিশ্বজিৎ চন্দ এবং সদস্য ড. তানিয়া হক।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের পদমর্যাদাসহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ড. কামাল উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেন। এর আগে তিনি ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • মূল বিষয়সমূহ:
  1. পদত্যাগকারী: চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং পাঁচ সদস্য—মো. সেলিম রেজা, মো. আমিনুল ইসলাম, কংজরী চৌধুরী, ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও ড. তানিয়া হক।
  2. কারণ: ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, প্রবল চাপের মুখে তারা পদত্যাগ করেন।
  3. বর্তমান অবস্থা: চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যের পদত্যাগের ফলে বর্তমানে কমিশনটি জনবল শূন্য।
  4. আইনি ধারা: পদত্যাগপত্রগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯-এর ৬(৪) ধারা অনুযায়ী দাখিল করা হয়েছে।

এই গণপদত্যাগের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে