আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: ইরানী বাহিনী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ দুটি উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের একটি গোপন আস্তানা ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি করেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান হামলা চালাচ্ছে। গত বছরের জুনে হামলার প্রায় আট মাস পর এবার হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্য ইরানে একটি স্টিলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ভূপাতিত বিমানটি লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুদ্ধবিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিমানটি পুরোপুরি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে পাইলটের পরিণতি কী হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এর আগে শুক্রবার সকালে আইআরজিসি ঘোষণা করেছিল, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের আরেকটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই বিমানটি পরবর্তী সময়ে হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মাঝামাঝি ‘পারস্য উপসাগরে’ আছড়ে পড়ে।
আইআরজিসি উল্লেখ করেছে, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মিথ্যা দাবির পর দেশের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা আইআরজিসি নৌবাহিনীর আধুনিক উন্নত ব্যবস্থার মাধ্যমে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে শত্রুর একটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে আঘাত করা হয়েছে।’
এসব ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল। এর আগে ১১ মার্চ আইআরজিসি সফলভাবে মধ্য ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেটে আঘাত করেছিল।
যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যম পরে নিশ্চিত করেছিল, একটি এফ-৩৫ পশ্চিম এশিয়ার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। ইরানি হামলার কারণে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে পরে এনপিআর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই যুদ্ধবিমান শিগগিরই আর সচল করা যাবে না।
তা ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধে তিনটি এফ-১৫ ও একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার হারানোর কথা নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগন অবশ্য এই বিপর্যয়কর ক্ষতিগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এগুলোকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের ভুলবশত আক্রমণ) বা ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী নেভাদায় একটি এফ-৩৫ বিধ্বস্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে স্টিলথ ফাইটার হারানোর খবর লুকাতে এটি একটি মরিয়া চেষ্টা এবং সাজানো গল্প মাত্র। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা মধ্য ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এ দাবিতে বলা হয়, বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তীব্র বিস্ফোরণের কারণে পাইলট বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি নিশ্চিত করেনি।
-
মূল বিষয়সমূহ:
- দাবি: ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি তাদের আকাশসীমায় ভূপাতিত করা দ্বিতীয় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। এর আগে ১৯ মার্চ ২০২৬-এ প্রথমবার এমন দাবি করা হয়েছিল।
- অবস্থান: বিমানটি মধ্য ইরানের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
- পাইলট: প্রচণ্ড বিস্ফোরণে বিমানটি ধ্বংস হওয়ায় পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
- মার্কিন প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাষ্ট্র বা সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই নতুন দাবির খবর সামনে এল।


