বাড়ি আন্তর্জাতিক পরমাণু বোমা নিরাপত্তা দেয়, প্রমাণ করলো ইরান যুদ্ধ: কিম জং উন

পরমাণু বোমা নিরাপত্তা দেয়, প্রমাণ করলো ইরান যুদ্ধ: কিম জং উন

0
3
“‘আমাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা হলে সমুচিত জবাব মিলবে।’’

আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: যে সব দেশের কাছে পরমাণু অস্ত্র নেই তারা মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের মুখে কার্যত অরক্ষিত বলে দাবি করেছেন কিম। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা হলে সমুচিত জবাব মিলবে।’’ ইরানের যুদ্ধ প্রমাণ করেছে পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা! মঙ্গলবার এই দাবি করলেন উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট একনায়ক কিম জং উন। সে দেশের আইনসভা সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে এক বক্তৃতায় তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলা প্রমাণ করল যে আমাদের দেশ পারমাণু অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঠিক কাজই করেছে।’’
যে সব দেশের কাছে পরমাণু অস্ত্র নেই তারা মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের মুখে কার্যত অরক্ষিত বলে দাবি করেছেন কিম। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা হলে সমুচিত জবাব মিলবে।’’ উত্তর কোরিয়ার শাসক জানিয়েছেন, আমেরিকার ‘মিষ্টি কথায়’ ভুলে তিনি অতীতে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটেননি। ভবিষ্যতেও সে পথ মাড়াবেন না। তাঁর কথায়, ‘‘পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার নীতি অপরিবর্তনীয়।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যে কূটনৈতিক বার্তালাপ শুরু করেছিলেন, তা আবার চালু করতে চান। আট বছর আগে কিমের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে বৈঠকের পরে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন শীঘ্রই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটবে পিয়ংইয়ং। এই আবহে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কিমের মন্তব্য, ‘‘পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের পরিকল্পনা বানচাল করে দিতেই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।’’ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকা-ইউরোপের উপর চাপ বাড়িয়ে গত ১৩ মার্চ এক সঙ্গে ১০টি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল উত্তর কোরিয়া। এ বার কিম সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ওয়াশিংটনকে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বা যুদ্ধ প্রমাণ করে দেয় যে তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের চাপ প্রত্যাখ্যান করে সেগুলো ধরে রাখার সিদ্ধান্তটি একেবারে সঠিক ছিল।

  • কিম জং উনের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো হলো:

  1. অস্ত্রই একমাত্র রক্ষাকবচ: কিম জং উন পিয়ংইয়ংয়ের ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’-তে দেওয়া ভাষণে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা স্পষ্ট করে দেয় যে পারমাণবিক অস্ত্রই কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রকৃত গ্যারান্টি।
  2. যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা: তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকায় ইরানকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
  3. অপরিবর্তনীয় অবস্থা: কিম ঘোষণা করেছেন যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং তারা কোনো অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
  4. ইরানকে সহায়তার প্রস্তাব: কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম জং উন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রয়োজনে দেশটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন।

সহজ কথায়, লিবিয়া বা ইরাকের মতো ইরানের পরিণতি দেখে কিম জং উন বিশ্বাস করেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলে যে কোনো সময় বিদেশি শক্তির আগ্রাসনের শিকার হতে হয়, তাই নিজের শাসন টিকিয়ে রাখতে এই অস্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।

  • এ সংক্রন্ত অন্যান্য সংবাদের সার-সংক্ষেপ:

  1. আমেরিকার পর পাকিস্তানকে ‘দূত’ মেনে নিল ইরানও! তবে শান্তিবৈঠকস্থল হিসাবে বিকল্প দেশের নামও রাখল তেহরান
  2. অনুমতি নেই! হরমুজ় পার করতে গিয়ে ইরানের ‘বাধার মুখে’ পড়ল করাচিগামী জাহাজ, আটকে গেল পারস্য উপসাগরে
  3. আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দৌত্যে পাকিস্তান! যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব তেহরানকে পাঠান শাহবাজ়েরাই
  4. নিজেদের পরাজয় ঢাকতে তাকে সমঝোতা বলে চালানোর চেষ্টা করবেন না’! ট্রাম্পকে খোঁচা ইরানের
  5. ধ্বংস থাড, এফ-৩৫ থেকে অত্যাধুনিক রেডার! ‘এলাম-দেখলাম-জয় করলাম’ থেকে আমেরিকার মুখে এখন ‘আর করব না’

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে