বাড়িআলোচিত সংবাদঢাকা ১৮’র সাংসদ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন রাষ্ট্রীয় রাজনীতির একটি দৃষ্টান্ত (ভিডিও)

ঢাকা ১৮’র সাংসদ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন রাষ্ট্রীয় রাজনীতির একটি দৃষ্টান্ত (ভিডিও)

বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: জাহাঙ্গীর ১ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করে তিনি তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য হোন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। একই বছরে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরের বছর তিনি কলেজটির ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ছাত্রসংগঠনটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তার বিরুদ্ধে একজনকে হত্যার মামলা দেওয়া হলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে চলে যান। ২০০১ সালে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিকভাবে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী ছিলেন। ২০০০-এর দশকের প্রথমদিকে তিনি কিছু সময়ের জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশ চলে যান। তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগ দেন। এক এগারোর সময়ে তিনি ২০০৭ ও ২০০৮ সালে আবার আত্মগোপনে চলে যান। ২০১০ সালে তিনি একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক হোন। তিনি এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার গঠিত আংশিক কমিটিতে জাহাঙ্গীরকে সভাপতি নিযুক্ত করে এক মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি নতুন দায়িত্বের সাথে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে থাকায় শীঘ্রই নতুন দায়িত্ব থেকে সরে যান।

  • রাজনৈতিক জীবন:

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৮ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়ান। ২০২০ সালে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনের মৃত্যু হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়। এর ফলে আসনটিতে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়। উপনির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২৩ সালে দশ বছর পূর্বে উত্তরা পূর্ব থানায় করা একটি মামলার রায় অনুযায়ী তিনি সহ অভিযুক্ত ৭৩ জনের জন্য আদালত ৭ বছরের জন্য কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীর শিক্ষার্থীদের সমর্থন করেন এবং ঢাকার উত্তরা থেকে নিয়মিত আন্দোলনে যোগ দিতে থাকেন। ফলে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং তার বাড়ি আক্রমণের শিকার হয়। আন্দোলনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয় যার ফলে ৫ আগস্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাহাঙ্গীর কারাগার থেকে মুক্তি পান। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় পর্যায়ে তার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্তরে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে থাকেন। ছাড়া পাওয়ার পরপরই তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় ২০২৫ সালে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনা সহ ৮২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তার দল তাকে আবার মনোনয়ন দেয় এবং তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৮ আসনের জন্য নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আরিফুল ইসলামের চেয়ে প্রায় ৩৩,০০০ ভোট বেশি পেয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তরুণ জাহাঙ্গীরের বিশ্বদৃষ্টিকে গঠন করেছে। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতাদের ত্যাগ প্রত্যক্ষ করে তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আজীবন প্রতিশ্রুতির সূচনা করে।

  • ব্যক্তিগত জীবন:
“২০২৬ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এর মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা শুধু একটি বিজয় ছিল না — এটি একটি দায়িত্ব যা আমি প্রতিদিন বহন করি- এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন”

জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর নাম রাজিয়া সুলতানা। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের বাসভবন উত্তরার নিকটে আব্দুল্লাহপুরে অবস্থিত। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলা অন্তর্গত সখিপুর থানা উত্তর চরকুমারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠে তিনি ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং অন্যদের সেবা করার মূল্যবোধ শিখেছেন। তাঁর পিতা মরহুম এ কে এম নুরুজ্জামান এবং মাতা মরহুমা খায়রুন নেসা তাঁর মধ্যে সমাজ ও জাতির প্রতি গভীর কর্তব্যবোধ জাগ্রত করেন।
তিনি ১৯৮৭ সালে বিজি প্রেস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন, এরপর ১৯৮৯ সালে তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯১ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন, এটিকে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি মঞ্চ হিসেবে চিনতে পারেন।

  • রাজনৈতিক মামলা:

তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ৩২৯টিরও বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দায়ের করা এই মামলাগুলো ছিল তাঁর কণ্ঠস্বর দমন করার এবং তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিরত রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। তবুও তিনি সাহসের সাথে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার থেকে কখনো পিছু হটেননি।
তিনি তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং কর্মকাণ্ডের জন্য কারাবাস বরণ করেছেন। ২০১৮-২০২৪ সময়কালে, অনেক বিএনপি নেতার মতো, তিনি কঠোর নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। কারাজীবনের কষ্ট সত্ত্বেও, তিনি তাঁর সংকল্পে অটল ছিলেন এবং জনগণের সেবা করার জন্য আরও শক্তিশালী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে বেরিয়ে এসেছেন।
আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পদ্ধতিগত নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হয়েছে, তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং তাঁর মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি দৃঢ় ছিলেন এবং ঢাকা-১৮ এর মানুষের জন্য সহনশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে যা আলাদা করে তা শুধু কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা নয়, বরং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি তাঁর অবিচল প্রতিশ্রুতি। এমনকি অন্ধকারতম সময়েও তিনি কখনো সহিংসতা বা প্রতিশোধের পক্ষে কথা বলেননি। তাঁর বার্তা সর্বদা ছিল ঐক্য, গণতন্ত্র এবং সকলের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

  • একটি উন্নত আগামীর প্রতিশ্রুতি:
“আমার লড়াই কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ছিল না। এটা সর্বদা বাংলাদেশের মানুষের জন্য — তাদের অধিকার, তাদের মর্যাদা এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য”
১. উত্তরা, তুরাগ এবং আশেপাশের এলাকায় আধুনিক রাস্তা, উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনা। ২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জন্য স্বচ্ছ শাসন। ৩. ঢাকা-১৮ কে আরও বাসযোগ্য করতে সবুজ এলাকা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়ন। ৪. নারী শিক্ষা, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং সকল নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণের কর্মসূচি। ৫. সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং প্রতিটি বাসিন্দার জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা। ৬. সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ঢাকা-১৮ এর যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ।
এছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৯১, ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • রাজণীতির সার-সংক্ষেপ:
  1. ১৯৯১ সালে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন, ছাত্রদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত।
  2. যুবদল ঢাকা উত্তরের সভাপতি হিসেবে যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে হাজার হাজার তরুণ কর্মীকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
  3. অসংখ্য সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি, রক্তদান ক্যাম্প এবং দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রম আয়োজন করেছেন।
  4. ২০২৪ সাল থেকে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দলের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
  5. ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১৯১, ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হন।
  • ঢাকা-১৮ এর জনগণের প্রতি বার্তা:

আমার প্রিয় ঢাকা-১৮ এর ভাই ও বোনেরা- আমি আমার জীবন আপনাদের সেবায় উৎসর্গ করেছি। আমি কারাবাস, অগণিত মামলা এবং নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কখনো পিছু হটিনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনারা আমাকে যে আস্থা দিয়েছেন তা আমার কাছে পবিত্র আমানত। আপনাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আমাদের নির্বাচনী এলাকায় প্রকৃত পরিবর্তন আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একসাথে আমরা ভালো রাস্তা, ভালো স্কুল, ভালো হাসপাতাল এবং ঢাকা-১৮ এর জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব। “আমার লড়াই কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ছিল না। এটা সর্বদা বাংলাদেশের মানুষের জন্য- তাদের অধিকার, তাদের মর্যাদা এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এর মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা শুধু একটি বিজয় ছিল না- এটি একটি দায়িত্ব যা আমি প্রতিদিন বহন করি।”

প্রতিটি নেতার পেছনে একটি পরিবার থাকে যা শক্তি ও সমর্থন যোগায়। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন নিবেদিত পরিবারপ্রধান। তাঁর পরিবার সকল চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে, তাঁর কারাবাস এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় অবিচল সমর্থন জুগিয়েছে। বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় বসবাসরত, তিনি শরীয়তপুর জেলায় তাঁর শেকড়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

আমাদের ভিউয়ারগনের সুবিধার্থে বিটিভি কর্তৃক ধারনকৃত ভিডিওটি ব্রডকাষ্ট করা হলো-

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments