বাড়িঅনুসন্ধানী সংবাদবাংলাদেশে এক বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী বেড়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ

বাংলাদেশে এক বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী বেড়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ

বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশে গত এক বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার (১,৭৮,৭৫৭) বৃদ্ধি পেয়েছে । ১৬ মার্চ ২০২৬-এ প্রকাশিত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে । অর্থাৎ, এক বছরে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৭ জন বেড়েছে। ২০২৫ সালের এই সময়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১০৭ জন। সোমবার ১৭ মার্চ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা- ‘ইউএনএইচসিআর’ এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
‘ইউএনএইচসিআর’এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে নবাগত দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জনকে। সে হিসাবে নতুন জন্মগ্রহণ করা শিশুর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৩০১ জন হতে পারে। নবাগতদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সাধারণ সংঘাতের পাশাপাশি ‘টার্গেটেড’ সংঘাতের কারণে নতুন মাত্রায় রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি ঘটে। নবাগত রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চিহ্নিত করা হলেও সম্পূর্ণরূপে নিবন্ধিত হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বিতরণে কেবল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয় তাদের।
‘ইউএনএইচসিআর’ এর হিসাবে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৫। গত বছর ওই সময় পর্যন্ত ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৩০৩টি। অর্থাৎ, এক বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারের সংখ্যা ৪১ হাজার ৯১২টি বেড়েছে। অবশ্য, ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে নবাগত পরিবার হিসেবে দেখানো হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৫৫টি। ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৫০২। আর ২০১৭ সালের অগাস্টের পর এসেছে ১০ লাখের বেশি।

  • ব্যাপক বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো:
  1. নতুন অনুপ্রবেশ: গত এক বছরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ।
  2. জন্মহার: ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে । ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে শরণার্থী শিবিরে ৩৪,৩০১ জন নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে।
  3. পারিবারিক ইউনিট বৃদ্ধি: এক বছর আগে রোহিঙ্গা পরিবারের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৩০৩টি, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৫টি।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের শেষের দিকে নতুন শরণার্থীদের একটি বড় ঢেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করে যাদের বর্তমানে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments