বাড়িজনতার মতামতড. ইউনূসের প্রতিশ্রুতি মতে উপদেষ্টাদের সম্পত্তির হিসাব পাওয়া গেল না!

ড. ইউনূসের প্রতিশ্রুতি মতে উপদেষ্টাদের সম্পত্তির হিসাব পাওয়া গেল না!

বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদক: শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। তার ১৭ দিনের মাথাতেই ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সকল উপদেষ্টার সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করবেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট। তার দু’সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে ভাষণে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এখনও তা পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ। ইউনূস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সরকারি ক্ষেত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন তিনি। তাঁর অধীনে থাকা সমস্ত উপদেষ্টার সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলল। এখনও কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অধিকাংশ উপদেষ্টাই সম্পত্তির হিসাব জমা দিয়েছেন। কিন্তু তা প্রকাশ্যে আসেনি।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের চাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে আসেন শেখ হাসিনা। ৮ অগস্ট ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। তার পর দফায় দফায় বিভিন্ন দফতরের উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে ইউনূসের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার সংখ্যা ২০ জন (প্রধান উপদেষ্টা বাদে)। এ ছাড়াও বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে রয়েছেন আরও চার জন। ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ২৫ আগষ্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন ইউনূস। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করে সে দিনই বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব সকল উপদেষ্টার সম্পত্তির বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। ধীরে ধীরে সকল সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেও তা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলির আধিকারিকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার এমন ঘোষণা জনমানসে আশার সঞ্চার করেছিল। যদি সকলের সম্পত্তির পরিসংখ্যান সত্যিই প্রকাশ করা হত, তবে জনমানসে তা ইতিবাচক বার্তা দিত। সেই অনুযায়ী উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা প্রকাশও করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে বলা হয়েছিল, উপদেষ্টা এবং সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আয় এবং সম্পত্তির হিসাব প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জমা দেবেন। একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছিল। সকলেই জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গত অর্থবছরের হিসাব তাঁরা জমা দিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ ফেসবুকেও সে কথা ঘোষণা করেছেন। তা সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে কেন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ্যে আনা হল না, প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, প্রক্রিয়া এখনও চলছে। কিছু দিন আগে বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদের সাংবাদিক বৈঠকেও এই প্রশ্ন উঠেছিল। ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে। তবে নিশ্চিত ভাবে কোনও তারিখ তিনি বলতে পারেননি।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments