⇒ সবার আগে বাংলাদেশ ⇐
♥ “বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহৎ ও প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি
‘সবার আগে বাংলাদেশ’দর্শনকে সন্মান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত
উন্নয়ন এবং সামগ্রিক জনগনকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা
প্রথম ও প্রধান কাজ হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫১ দফায় ইশতেহার প্রকাশ করেছে” ♥
বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ইশতেহার কেবল কয়েকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্টের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির মৌলিক ঘোষণা। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন- আমরা প্রতিশোধে নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। ক্ষমতা আমাদের নয়, জনগণের অধিকারই দলটির রাজনীতি করাই আমাদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু। দর্শনের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করেছে বিএনপি। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে ৪৪ পৃষ্ঠার বিস্তৃত এই ইশতেহারে পাঁচটি ভাগে ৫১টি দফা নানা পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে বিএনপি দলের ঘোষিত ৩১ দফা ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে দুর্নীতি দমন, ন্যায়পাল নিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার অঙ্গীকার করেছে। আইনের শাসন বাস্তবায়নে দলটি ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সুনিশ্চিতের কথা বলেছে। বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনে দলটি স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ, বেকারভাতা প্রদান, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ, ই-হেলথ কার্ড চালু, প্রতিরক্ষা খাতে ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন নীতি প্রণয়ন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি বিদেশে প্রেরণের অঙ্গীকার করেছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করে দলটি বলেছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও নির্বাচনী জোটের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান প্রতিশ্রুতি : ইশতেহারে বিএনপি অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে ৯ টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে তা হলো
ফ্যামিলি কার্ড : প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।- কৃষক কার্ড : কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ‘কৃষক কার্ডে’র মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ সুবিধা পাবেন।
- স্বাস্থ্য খাতে বড় নিয়োগ : দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
- কর্মমুখী শিক্ষা : প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার, বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রযুক্তি সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
- তরুণদের কর্মসংস্থান : কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে সংযুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা।
- ক্রীড়া উন্নয়ন : ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানো হবে।
- পরিবেশ সুরক্ষা : দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।
- ধর্মীয় সম্প্রীতি : সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি।
- ডিজিটাল অর্থনীতি : আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ।
বিএনপি বলেছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই দলটির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ইশতেহারে বলা হয়েছে, লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে- সবার আগে বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় শুরুতে জুলাই সনদের বিষয়টি ছিল না। কিন্তু দেশের দলমত নির্বিশেষে সবাই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চায় না। আমরাও চাই না। তাই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়বস্তু আমাদের ৩১ দফার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-নামক ৫১-দফা ইশতেহারে দেশ পরিচালনা ও জনগণের জীবন মান উন্নয়নের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করার লক্ষ রাখা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য আধুনিকীকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি


