বাড়িজনপ্রিয় সংবাদনব-নির্বাচিত সরকারের প্রথম মাস, প্রধান ৯ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশেষ নজর

নব-নির্বাচিত সরকারের প্রথম মাস, প্রধান ৯ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশেষ নজর

বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে বিএনপি। এরপরে ১৭ই মার্চ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পরদিন থেকেই অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও প্রধানমন্ত্রী অফিস করছেন। নব-নির্বাচিত (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত) তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। ‘পরিবর্তনের মাস’ হিসেবে পরিচিত প্রথম ২৮ দিনে সরকার রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাস পার করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সময়ে নির্বাচনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সর্বান্তে চেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই ব্যতিক্রমী সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিন-রাত একাকার করে তিনি ছুটছেন। ছুটির দিনেও অফিস করছেন। প্রশাসন সরকারি দপ্তরগুলোকে দ্রুত কার্যকর ও গতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে এমন সব উদ্যোগ নিয়েছেন যাতে খুশি সাধারণ মানুষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি সফল হবেন এমন আশাবাদও তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এক মাসের কর্মকাণ্ড থেকে। যদিও সরকারের সাফল্যের প্রচার প্রচারণা তেমন দেখা যায়নি।
সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ঘোষিত ইশতেহারের প্রধান ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং খালখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খালখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য ফার্মাস কার্ড পহেলা বৈশাখে দেয়া শুরু করবে সরকার। কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন তিনি। ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস, প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়, সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি অপচয় রোধ এবং ইফতার সীমিত।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, এক মাসে তো কিছু জরুরি ব্যাপার ছিল, সেগুলো তারা হাত দিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, খালখনন, অফিস আদালতের সময় ঠিক করা, ধর্মীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেয়া- এগুলো তারা করছেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও কিছু কাজ করছেন, সেটা হলো পুরোনোদেরকে সরিয়ে কিছু নতুন নতুন নিয়োগ হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কয়েকটিতে নতুন ভাইস চ্যান্সেলর দিয়েছে। মঞ্জুরি কমিশন নতুন চেয়ারম্যান দিয়েছেন- এগুলো করেছে তারা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, এই প্রথমবার আমরা এমন একটি সরকার দেখছি, যেখানে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা রয়েছে, পূর্ণাঙ্গ বাকস্বাধীনতা রয়েছে এবং যে বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো তার ভেতরে কিন্তু সরকার যথেষ্ট সফল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়ভিত্তিকভাবে তার প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তিনি মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের সঙ্গে নিবিড় কর্মপরিবেশ গড়ে তোলবার জন্য নিয়মিত সচিবালয়ে ধারাবাহিকভাবে মিটিং করছেন। কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এখন পর্যন্ত জনগণের প্রত্যাশা বহুলাংশে পূরণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপের কথা নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। পোস্টে তিনি লিখেন, ঠিক এক মাস আগে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
২৮ দিনে নেয়া সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো- সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা: ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেয়া হবে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী ৪ হাজার ৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ। দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম-মাশায়েখদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।

  • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি:

পহেলা বৈশাখে পরীক্ষামূলকভাবে ২১ হাজার ৫০০ কৃষকদের মধ্যে ফার্মাস কার্ড দেবে সরকার এবং কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন: সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তনের কারণে জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে। এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে।

  • অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা:

রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধের নির্দেশ এবং পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি- স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু।

  • শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন:

পুনঃভর্তি ফি ও লটারি ভর্তি এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ৯ হাজার নিয়োগের সিদ্ধান্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত; নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগ; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

  • স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ:

স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, এর মধ্যে ৮০ ভাগ নারী নেয়া হবে। সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

  • আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা:

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ:

রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়, সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি অপচয় রোধ করা হয়েছে। কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং দেশ জুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ২৫শে ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত ঢাকা হয়রত শাহ্‌জালাল বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেয়া। বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মি. আমিন এও বলেন, আমরা দেখি ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর আমাদের নারীদের মাঝে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিব যখন তাদের সম্মানী পেয়েছেন, তাদের মাঝে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে- সমাজের প্রতিটা শ্রেণী এবং পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে যে ধরনের গৃহীত এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন করছেন। এই সফলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার একটা নতুন মানদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

  • – ইশতেহার অনুযায়ী প্রধান ৯ টি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বিশেষ নজর:

  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রমজান প্রস্তুতি

বিশেষ নজর: পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনশীল মাত্রায় ধরে রাখতে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক ও বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়িয়ে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিতরণ।

  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও সন্ত্রাস দমন

বিশেষ নজর: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং গত ১৬ বছরে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও সহিংসতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান। চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু।

  • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকিং খাত সংস্কার

বিশেষ নজর: ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। অর্থ পাচার রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ।

  • ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

বিশেষ নজর: দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রজেক্টের উদ্বোধন। দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করা।

  • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন

বিশেষ নজর: কৃষকের উৎপাদন খরচ ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ। ‘ফার্মার কার্ড’ চালু এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা।

  • স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও ‘হেলথ কার্ড’

বিশেষ নজর: স্বাস্থ্যের ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১৩ সদস্যের বিশেষ সেল গঠন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম সচল করা।

  • প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা

বিশেষ নজর: জনপ্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও কর্মঠ করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক রদবদল। সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি।

  • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি

বিশেষ নজর: শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি।

  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা

বিশেষ নজর: তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া। সরকারি দপ্তর ও বিমানবন্দরে হাই-স্পিড ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments