বাড়িজনপ্রিয় সংবাদবাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৭৮ নারী এবং ৮০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৭৮ নারী এবং ৮০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী

বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে ২০২৬ সালের চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে ভোটের লড়াইয়ে মোট প্রার্থী এক হাজার ৯৮১ জন। তবে তার মধ্যে মাত্র ৭৮ জন মহিলা। শতাংশ হিসেবে মাত্র ৩.৯৩। আসন্ন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৭৮ জন মহিলা প্রার্থী! তবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁদের পরিবারের কেউ না কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এত কম মহিলা প্রার্থী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু মহিলা নন, সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে লড়ছেন ১, ৯৮১ জন। তবে তার মধ্যে মাত্র ৭৮ জন মহিলা। শতাংশের হিসাবে মাত্র ৩.৯৩। ৭৮ জনের মধ্যে ৩০টি আসনে রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন ৬১ জন। বাকিরা নির্দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই জাতীয় নির্বাচনে লড়ছেন।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মহিলা। সেই বিচারে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে সংখ্যাটা নগণ্য। অনেকের মতে, বছর দেড়েক আগেও যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন একজন নারী (শেখ হাসিনা)। সেখানে রাজনীতি বা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে লিঙ্গ বৈষম্যের ছবি পুরোটাই স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাজনীতি যে অনেকটাই ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানছেন সে দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন কর্তা। শুধু পুরুষতান্ত্রিক নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবও যথেষ্ট রয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ৬১ জন মহিলা প্রার্থীর মধ্যে এক তৃতীয়াংশই রাজনৈতিক পরিবারের। অনেকের মতে, সেই সব মহিলা প্রার্থীদের অনেকে নির্বাচনে ভাল ফল করতে পারেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন সদস্য জেসমিন টুলীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘তৃণমূল স্তর থেকে লড়াই করে রাজনীতির ময়দানে উপরের সারিতে উঠে আসা মহিলাদের সংখ্যা হাতেগোনা। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে মহিলাদের তেমন উৎসাহ দেয় না বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবার।’’
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)সহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল কোনও মহিলাকে প্রার্থীই করেনি। বিএনপি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ১০ জন করে মহিলা প্রার্থী করেছে। তবে এই ১০ জনই বিএনপির কোনও না কোনও প্রভাবশালী নেতার পরিবারের সদস্য। জাতীয় পার্টি ছ’জনকে প্রার্থী করেছে আসন্ন নির্বাচনে।
অন্য দিকে, বাংলাদেশের নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোট ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। তাদের প্রতীকে ১৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন মহিলা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments