বাড়িআন্তর্জাতিকইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’!জবাব দিতে কী সমরাস্ত্র ব্যবহার করবে আমেরিকা?

ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’!জবাব দিতে কী সমরাস্ত্র ব্যবহার করবে আমেরিকা?

আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দুই দেশের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরালো করেছে ইরান। তারা আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করেছে। এই অভিযানে প্রতিপক্ষ দু’দেশের বিভিন্ন ঠিকানায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে খামেনেইয়ের দেশ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই সে দেশের প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে ‘নরকের দরজা দেখিয়েই ছাড়ব’। আর তার পর থেকেই দুই দেশের বিরুদ্ধে সংগঠিত এবং সুনির্দিষ্ট ভাবে হামলা চালাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করেছে ইরান।
এই অভিযানে খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এটি ইরানের অস্ত্রভান্ডারের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি। ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইজ়রায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে তছনছ করে একের পর এক সেনাঘাঁটি, সরকারি দফতর এবং পূর্ব জেরুসালেমে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পরই ইজ়রালেয়িদের সতর্ক করে ইরান বলেছে, সেনাঘাঁটি এবং সরকারি দফতরগুলি থেকে দূরে থাকুন।
খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের অস্ত্রভান্ডারের নবীন সদস্য। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে এটি ইরানের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে। ইরানের দাবি, প্রতিপক্ষ দুই দেশের ঘুম ‘ওড়ানোর’ পক্ষে যথেষ্ট তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র। এটি দীর্ঘপাল্লার সলিড ফুয়েল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি চতুর্থ প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। এর পাল্লা এতটাই বেশি যে, ইজ়রায়েল, মিশর, সৌদি আরব এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশও এই ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানার আওতায় চলে আসে। ইরান দাবি করছে, এখনও তারা শুধু অস্ত্রভান্ডারের খুব সামান্য অংশই আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তবে প্রয়োজনে যে পুরো শক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে প্রস্তুত, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তারা। খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে স্যাটেলাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা। এটি বিপুল পরিমাণ পরমাণু বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। ওজন ১৫০০ কেজি। ২০২৪ সালে ‘ট্রু প্রমিস ১’ অভিযানে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল ইরান।
এ ছাড়াও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে ইরানের শাহেদ ১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন। সস্তার এই ড্রোন দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বেশ কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। বিপুল পরিমাণে এই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি। অত্যন্ত ঘাতক এই ড্রোন আকারে ছোট। এই ড্রোন ২০০০-২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ইরান থেকে ইজ়রায়েলের দূরত্ব প্রায় ১৬০০-১৮০০ কিলোমিটার। ফলে সহজেই এই ড্রোনকে কাজে লাগাতে পারছে ইরান। ২০২০ সালে এই ড্রোন তৈরি করে ইরান।

  • সার-সংক্ষেপ:

  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
ইরানের সম্ভাব্য ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ বা যেকোনো বড় ধরনের হামলার জবাবে আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (প্যাট্রিয়ট, আয়রন ডোম), এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল [২, ৪]। এছাড়াও, বিমানবাহী রণতরী ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমেও জবাব দেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্য মার্কিন সমরাস্ত্র ও কৌশল:
  • যুদ্ধবিমান: স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ লাইটনিং ২ (F-35 Lightning II) এবং এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল (F-15E Strike Eagle) বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হবে [৪]।
  • আকাশ প্রতিরক্ষা: প্যাট্রিয়ট (Patriot) মিসাইল সিস্টেম এবং ইসরায়েলের নিজস্ব আয়ারন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো সিস্টেম ব্যবহার করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হবে [২, ৪]।
  • ক্রুজ মিসাইল: নৌবাহিনী বা সাবমেরিন থেকে টমাহক (Tomahawk) ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও কমান্ড সেন্টার টার্গেট করা হতে পারে।
  • রণতরী: মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী (Carrier Strike Group) থেকে বিমান ও মিসাইল হামলা পরিচালনা করা হবে।
এই সম্ভাব্য জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং আগাম প্রতিহত করার কৌশল (যেমন- অপারেশন এপিক ফিউরি) গ্রহণ করতে পারে।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments