বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: যদিও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে সমগ্র বাংলাদেশের মুল ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে গনঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। এমতাবস্তায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নামে একটি গনঅভ্যুত্থান করলেও চরম বৈষম্য সৃষ্টি করে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের ভোট প্রদানে অনিশ্চয়তার সম্মুখিন করে তুলেছে। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা তাদের সংগঠনের উপর মহলের সিদ্ধান্ত ছাড়া অন্য কোনও প্রতিকে যদিওবা ভোট দিতে আগ্রহী হবেন না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীত্বে ইস্তফা দিয়ে ভারতে অরস্থান করছেন। এমনকি, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগকে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় অংশই ভোট দিতে চলেছেন মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী আর এক রাজনৈতিক দল বিএনপি-কে। বুধবার প্রকাশিত একটি জনমত সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক জনমত সমীক্ষা করেছে ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ এবং ‘বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ় যৌথ ভাবে সেটি করেছে।
বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক জনমত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (সিআরএফ) এবং ‘বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ় যৌথ ভাবে এই সমীক্ষা করেছে। তার ফল জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, এমন ৪৮.২ শতাংশ ভোটার এ বার বিএনপিকে ভোট দেবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী (জামাত নামেই যা পরিচিত) পেতে পারে ২৯.৯ শতাংশ আওয়ামী লীগ ভোটারের সমর্থন।
অন্য দিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থনকারী ভোটারদের ৬.৫ শতাংশ এ বার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের একাংশের তৈরি নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভোট দেবেন বলে ওই জনমত সমীক্ষার দাবি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের জেরেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন হাসিনা। সেই আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনত আবদুল্লার মতো ছাত্রনেতারা পরবর্তী কালে এনসিপি গড়েন। এ বার তাঁরা জামাতের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোটে লড়ছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ১৩ শতাংশ ভোটার এ বার অন্য দলগুলির প্রার্থীদের সমর্থন করতে পারেন বলে জনমত সমীক্ষায় জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ২১ জানুয়ারি। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি থেকে। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। অন্য একটি জনমত সমীক্ষায় সম্প্রতি জানানো হয়েছে, সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপি প্রধান তারেখ রহমানকে বাংলাদেশের ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ বলে মনে করছেন। ২২.৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জামাতের আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন।


