“২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ হাজার ৭৮৫ টি মামলা হয়। এর মধ্যে ৬৬৩ টি মামলায় আসামি হিসাবে নাম এসেছে হাসিনার! অপরদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে মোট ৭৬১টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশকর্মীকে আসামি করা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছেন ৬১ জন পুলিশ সদস্য”
বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দু’টি দুর্নীতি মামলায় মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল রাষ্ট পরিচালিত একটি আদালত। পাশাপাশি, একটি আবাসন প্রকল্পে জমি বরাদ্দে অনিয়ম সংক্রান্ত ওই দু’টি দুর্নীতি মামলাযতে তাঁর বোন শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিককে যুক্ত করে তাদেরকে মোট চার বছর করে কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিউলিপ সিদ্দিকীর বোন আজমিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিবের সাত বছরের কারাদ ণ্ডের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঢাকার সিএমএম আদালতের বিশেষ বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
অন্য দিকে, হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণআন্দোলনের সময়ের নানা ঘটনায় সারা দেশে মোট ৬৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৪৫৩ টি। একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের দেড় বছরে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে জুলাই গণআন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার হত্যাকারী, হত্যার নির্দেশদাতা ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ হাজার ৭৮৫ টি মামলা হয়। এর মধ্যে ৬৬৩ টি মামলায় আসামি হিসাবে নাম এসেছে হাসিনার। মোট মামলার মধ্যে ৮৩৭ টি হত্যা মামলা, ওই হত্যা মামলার মধ্যে ৪৫৩টিতে হাসিনাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সম্প্রতি হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। ভারতে অবস্থান নেওয়া হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। টিআইবি আরও জানায়, এ পর্যন্ত ১০৬ টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৩১ টি। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য-সহ ১২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার সংখ্যার সঙ্গে অভিযোগপত্রের সংখ্যার তুলনা করে সংস্থাটি বলেছে, এতে তদন্ত কার্যক্রমের ধীরগতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ৭৬১টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশকর্মী আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র ৬১ জনকে।
প্রতিবেদনে এও উল্লেখ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১৭ টি মামলা হয়েছে। এ সব মামলায় ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৮১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার করা হয় ৭৫ হাজার ৪০০ জনকে, তবে ৫৫ শতাংশ জামিনে মুক্ত হয়েছেন।


