বাড়ি অর্থনীতি দেশে দেশে জ্বালানি সংকট! যুদ্ধের প্রভাব ঠেকাতে বাংলাদেশে জরুরী সিদ্ধান্ত!

দেশে দেশে জ্বালানি সংকট! যুদ্ধের প্রভাব ঠেকাতে বাংলাদেশে জরুরী সিদ্ধান্ত!

0
29
“বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাত প্রায় পৌনে ১১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং পরে সেখানে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের কার্যকরী সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি”

বিশেষ প্রতিবেদক: জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধন এবং ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়। রাত প্রায় পৌনে ১১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। পরে সেখানে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

“সংসদেই মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহন”

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে এখানেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা এবং সন্ধ্যা ৬টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানিতে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

  • জ্বালানি সাশ্রয় ও সংকট মোকাবেলায় নতুন সিদ্ধান্তসমূহ:
  1. অফিস সময় পরিবর্তন: সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, ব্যাংক কার্যক্রম চলবে ৩টা পর্যন্ত।
  2. দোকানপাট বন্ধ: সন্ধ্যার পর (সন্ধ্যা ৬টার পর) সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ।
  3. শিক্ষা কার্যক্রম: জ্বালানি সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস বা অনলাইনে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা।
  4. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC) ব্যবহার হ্রাস এবং অনাবশ্যক আলো-পাখা বন্ধ রাখার নির্দেশ।
  5. আমদানিতে বিকল্প উৎস: রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেল এবং মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু।
  • প্রেক্ষিত ও প্রভাব:
  1. যুদ্ধের প্রভাব: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
  2. রিজার্ভের ওপর চাপ: চড়া দামে জ্বালানি আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
  3. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: জ্বালানি সংকটের কারণে মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজের নীতি চালু হয়েছে।
  4. ইন্দোনেশিয়া এবং মিশরের কায়রোতেও জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা আপদকালীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে বিকল্প তেল আমদানি শুরু এবং সাধারণ মানুষের জন্য ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে।

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে