বাড়িআন্তর্জাতিকইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে আমি রাজি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে আমি রাজি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে ইচ্ছুক এবং তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, তারাও আলোচনা করতে চায় এবং আমিও আলোচনায় রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।
তিনি আরো বলেন, তাদের এটি আরো আগেই করা উচিত ছিল। যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং সহজ ছিল, তা তাদের অনেক আগেই দেয়া উচিত ছিল। তারা অনেক দেরি করে ফেলেছে। তবে এ আলোচনা ঠিক কবে নাগাদ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানজুড়ে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে এ পর্যন্ত খামেনিসহ ৪৮ জন ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আমরা যে সাফল্য পাচ্ছি তা কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না; এক আঘাতেই ৪৮ জন নেতা শেষ। এবং অভিযান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
আগামী দিনগুলোতে তেহরানে বিমান হামলা আরো জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো তাদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেনি।
এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, আমি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ জারি করেছি।… আমাদের বাহিনী এখন তেহরানের হৃদপিণ্ডে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত হানছে এবং আগামী দিনগুলোয় এ হামলার মাত্রা আরো বাড়বে।
তিনি ইসরায়েলে ইরানি হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, তার দেশ এখন যন্ত্রণাদায়ক দিন পার করছে।
নেতানিয়াহু বলেন, গতকাল তেল আবিবে এবং এখন বেইত শেমেশে আমরা প্রিয়জনদের হারিয়েছি। আমার হৃদয় এ পরিবারগুলোর পাশে আছে এবং আমি আপনাদের সবার পক্ষ থেকে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেয়ার কথা জানিয়েছে ইরান সমর্থিত লেবাননের হেজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে লেবানন হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এ গোষ্ঠী সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘অপরাধের সর্বোচ্চ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
হেজবুল্লাহর মহাসচিব বলেন, বিধাতার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এ আগ্রাসন মোকাবেলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবে।
হেজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটিকে ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করার জন্য এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া শক্তি ইরান প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তখন দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন দখল করেছিল।
হেজবুল্লাহ ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠনটির উপস্থিতি দেখা যায়।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা)

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments