বাড়িআন্তর্জাতিকইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণে এখনো ধোঁয়াশা

ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণে এখনো ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেক্স রিপোর্ট: অনিশ্চয়তার দোলাচলের মধ্যেই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে এই আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বিমানের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের প্রাক্কালে দেশটিতে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক জোরদারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডে-র ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স টিমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানের আকাশসীমায় নজিরবিহীন মার্কিন বিমান চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নূর খান (চাকলালা) বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক আনাগোনা দেখা গেছে। অন্তত চারটি সি-১৭ কার্গো বিমান অবতরণ করেছে।
একটি ভিআইপি পরিবহন বিমান সি-৪০ ক্লিপার ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এছাড়া, আইএসআর প্ল্যাটফর্মে ‘এসপিএইচওয়াই আর২৮’ কলসাইনের একটি গোয়েন্দা বিমানকে ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি করিডোরে দীর্ঘক্ষণ চক্কর দিতে দেখা গেছে।

  • এই বিমানগুলোর গুরুত্ব কী?

মার্কিন প্রোটোকল অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো ভিভিআইপি সফরের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিমানগুলো ব্যবহৃত হয়। সি-১৭ বিমানগুলো সাধারণত ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৯ টনের বিস্ট-সদৃশ বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম বহন করে। এই বিমানগুলো ১৭০,৯০০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম। আইএসআর বিমানটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রো- অপটিক্যাল ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে কূটনৈতিক এলাকা এবং চলাচলের রুটে রিয়েল- টাইম নজরদারি নিশ্চিত করছে।

  • আলোচনার ভবিষ্যৎ ও ভূ- রাজনৈতিক জটিলতা:

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও ইরানের অবস্থান এখনো কঠোর। তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ না করে, তবে তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করে এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “চুক্তি না মানলে গুলি শুরু হবে।”
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সময় ফুরিয়ে আসছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবে না।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান বোয়াজ বিসমুথ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি সাময়িক হতে পারে এবং যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় অভিযান শুরু হতে পারে।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা কাটেনি। পাকিস্তান সব ধরনের প্রস্তুতি রাখলেও, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের খবরকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে।
  • মূল বিষয়সমূহ:
  1. ইরানের অবস্থান: ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি ও অন্যান্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরান এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেয়নি এবং প্রতিনিধিদল পাঠানোর খবর অস্বীকার করেছে।
  2. যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা: মার্কিন প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানা গেছে।
  3. পাকিস্তানের উদ্যোগ: পাকিস্তান, বিশেষ করে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, কূটনৈতিক মিশনের জন্য ভিসা শর্ত শিথিল করেছেন এবং নিরাপত্তার জন্য ১০,০০০ পুলিশ মোতায়েন করেছেন।
  4. উত্তেজনা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ইরানের তীব্র আপত্তির কারণে এই সংলাপের ভবিষ্যত ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
যদিও কিছু গণমাধ্যম ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর খবর প্রকাশ করেছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম তা কঠোরভাবে অস্বীকার করায় বৈঠকটি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments