বিশেষ ডেক্স রিপোর্ট: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়কার ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক পেতে দেওয়া সেই আবু সাঈদ হত্যায় প্রাক্তন দুই পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন ৩০ জন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাক্তন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং প্রাক্তন কনস্টেবল সুজনচন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দু’জনেই এখন জেলে রয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছে। এই মামলায় যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য মহম্মদ হাসিবুর রশীদ, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার, ওই দফতরের কর্মী, ছাত্রলীগ (আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন) নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
আদালতের মামলায় নথিতে উত্থাপিত তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনে নেমেছিলেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থী সহ সাধারন মানুষও। সেই আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্র সাঈদ। গত ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের রাবার বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল এই শিক্ষার্থী। ছোট্ট বাঁশের লাঠি নিয়ে দু’হাত প্রসারিত করে পুলিশের উদ্যত বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল সাঈদ। কিন্তু পুলিশের বন্দুক থেকে ছুটে আসা রাবার বুলেটের আঘাতে ওই ছাত্রটি লুটিয়ে পড়েছিল মাটিতে।
মৃত্যুর ঠিক আগে পুলিশবাহিনীর লাঠি- বন্দুকের সামনে দু’হাত ছড়িয়ে অকুতোভয় সাঈদের সেই ভিডিওচিত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, পরবর্তী সময়ে ছাত্র আন্দোলন জোরদার করে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছিল পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে এমন বুক টান টান করে দাঁড়িয়ে থাকা সাঈদের সেই প্রতিবাদের ছবি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার দায়ে সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই ঐতিহাসিক রায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
-
রায়ের সার-সংক্ষেপ:
- প্রধান আসামি: সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় (উভয়েই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন)।
- মামলার রায়: এপ্রিল ৯ ২০২৬ তারিখে ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রধান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
- অন্যান্য সাজা: এই মামলায় আরো ৩ জন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
- প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন, যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- এই রায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে গণ্য করা হচ্ছে।


