বিনোদন ও জীবনধারা ডেক্স রিপোর্ট: আলো, হাওয়া, সবুজে মাখামাখি এ অন্দরসাজে ভরা রয়েছে প্রাণশক্তি। ঘরের কোনায় আসবাবের সঙ্গে মিলেমিশে যাক সবুজ প্রকৃতি। পুজোর সময়ে ঘরের সাজগোজ নিয়ে ভাবনাচিন্তা অনেকেই করেন। নতুন বেডকভার, নতুন নকশার পর্দা বা কার্পেট কেনা হয়ই। বসার ঘরে ঠাঁই পায় রকমারি ফুলদানি। তবে এ বার একটু অন্য ছন্দে ঘর সাজাতে পারেন। বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। কারণ এমন অন্দরসাজে আসবাব বা রকমারি শো-পিসের প্রয়োজনই হয় না। বরং ঘরের নিজস্ব পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়েমিশিয়ে দেওয়া হয় সবুজ প্রকৃতিকে।
-
বায়োফিলিক অন্দরসাজের খুঁটিনাটি:
বায়োফিলিক কথাটির উৎপত্তি ‘বায়োফিলিয়া’ থেকে, যার অর্থ প্রকৃতিপ্রেম। বায়োফিলিক অন্দরসাজে সবুজ গাছপালাই বেশি প্রাধান্য পায়। প্রাকৃতিক উপাদানেই সাজানো হয় ঘরের প্রতিটি কোনা। এর জন্য দামি জিনিস কেনার প্রয়োজন নেই। খুব সহজেই অল্প কিছু বিষয় রদবদল করলেই ঘর হয়ে উঠবে অন্যরকম। খেয়াল রাখতে হবে, প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে কিন্তু এই অন্দরসজ্জা হয় না।
-
সবুজ পাতায় সাজুক ঘরের কোণ:
বাড়ির আকার, আসবাবপত্রের অবস্থান অনুসারে পছন্দসই গাছ কিনতে হবে। ঘরের কোণে মনস্টেরা, ফিডল লিফ ফিগ বা স্নেক প্ল্যান্টের মতো বড় পাতাওয়ালা গাছ দেখতে ভাল লাগবে। মানিপ্ল্যান্ট, জিজি প্ল্যান্ট বা পিস লিলি কম আলোতেও ভাল থাকে এবং ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করে। বসার ঘর ও শোয়ার ঘরে এমন গাছ রাখতে পারেন। বিছানার পাশে একটা লম্বা পাম গাছ রাখতে পারেন। বারান্দায় সিঙ্গোনিয়াম জাতীয় গাছ ভাল লাগবে। বারান্দায় ফুল গাছ লাগিয়ে, টবে ক্যাকটাস-অর্কিড বসিয়ে, ব্যালকনির রেলিং থেকে লতানে ফুলগাছ ঝুলিয়ে দিতে পারেন। প্রয়োজনে কিনতে পারেন শৌখিন প্লান্টার্স ও প্লান্ট স্ট্যান্ড।
-
প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের কৌশল:
অন্দরসাজে যখন প্রকৃতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তখন কেবল গাছপালা দিয়ে ঘর সাজালে চলবে ন। দেওয়ালের রং, আসবাবের ধরন, আলো- সবই হতে হবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। অন্দরসাজ এমন হবে, যেখানে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির স্পর্শ পাওয়া যাবে। রোজের ব্যবহারের খুঁটিনাটি জিনিসপত্রে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক উপকরণ। যেমন, আসবাব, ঘর সাজানোর জিনিস, রান্নাঘরের টুকিটাকিতে ব্যবহার করুন কাঠ, বেত, পাট, বাঁশের জিনিস। মাটি বা পাথরের থালাবাটি রাখুন টেবিলে। দেওয়ালের সাজেও পাট বা কাঠের নানা শৌখিন জিনিস ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের লাগোয়া খোলা বড় বারান্দা থাকলে সেখানে কৃত্রিম ঘাস লাগিয়ে তৈরি করে ফেলুন ঘাসজমি। সেই ছাদবাগানে রাখুন দুটো বেতের চেয়ার ও টেবিল। সকালের চা ও জলখাবার রোদ পোহাতে পোহাতেই উপভোগ করুন।
শোয়ার ঘরে যাতে পর্যাপ্ত আলো-হাওয়া চলাচল করে খেয়াল রাখুন। জানলায় ভারী সিন্থেটিক পর্দার বদলে হালকা লিনেন বা ঘিয়ে রঙের সুতির পর্দা লাগিয়ে দিন। কাচ বা প্লাস্টিকের বদলে কাঠ বা বেতের তৈরি ল্যাম্পশেড ব্যবহার করতে পারেন। খাওয়ার টেবিলের প্লাস্টিকের বদলে বেতের বা বাঁশের ঝুড়ি ব্যবহার করতে পারেন। টেবিলের ঠিক মাঝখানে কাচের পাত্রে বা মাটির টবে ছোট মানিপ্ল্যান্ট বা হাইড্রোফোনিক প্ল্যান্ট রাখতে পারেন।
-
আলোর সাজ:
খুব চড়া আলো নয়। বায়োফিলিকের মূল কথাই হল আরামদায়ক ও শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ। সুন্দর ফ্লোর ল্যাম্প, ফেয়ারি লাইট বা সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘরের প্রতিটি কোণায় শান্ত এবং মায়াবী আবহ তৈরি করে ফেলুন। বসার ঘরের ঝুলন্ত আলো বা খাওয়ার টেবিলের উপর বেত ও বাঁশের সূক্ষ্ম বুননে তৈরি শেড ব্যবহার করুন। এতে আলো জ্বললে দেওয়ালে ছায়ার চমৎকার জ্যামিতিক নকশা তৈরি হবে। ঘরের কোণে রাখা বড় মনস্টেরা, ফিডল লিফ ফিগ গাছের উপর থেকে ওয়ার্ম স্পটলাইট ফেলুন। রাতের বেলায় যা দেখতে খুব ভাল লাগবে। মন শান্ত হবে।
-
পোশাকের নির্বাচন:
-
শাড়ি: গাঢ় সবুজ (এমারেল্ড গ্রীন) বা জলপাই সবুজ (অলিভ গ্রীন) রঙের সিল্ক, জামদানি বা কটনের শাড়ি বেছে নিতে পারেন।
-
কুর্তি বা সেট: আরামদায়ক উৎসবের লুকের জন্য সবুজ রঙের ফারশি স্যুটের সেট বা হালকা কাজের কামিজ পরতে পারেন।
-
পুরুষদের পোশাক: ছেলেরা পরতে পারেন গাঢ় সবুজ বা অলিভ রঙের সুতির পাঞ্জাবি।
-
গয়না ও অনুষঙ্গ:
-
অ্যান্টিক ও কুন্দন: সবুজ রঙের কাপড়ের সাথে অ্যান্টিক গোল্ড, গোল্ড প্লেটেড বা কুন্দনের গয়না দারুণ মানায়।
-
চুলের সাজ: খোঁপায় সাদা ফুল বা সাধারণ স্লিক বান রাখতে পারেন।
-
জুতো: আরামদায়ক ব্লক হিল বা মোজারি বেছে নিতে পারেন সারাদিন ঠাকুর দেখার সুবিধার জন্য।



