Wednesday, October 14, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeআইন ও বিধানভারত ছাড়তে হবে ইমরান খানকে, আটক বলিউড অভিনেতা!

ভারত ছাড়তে হবে ইমরান খানকে, আটক বলিউড অভিনেতা!

বিশেষ বিপোর্টার, নয়াদিল্লী: ভোটচুরির অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরাল হচ্ছে। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে এবার বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, যিনি আমির খানের ভাগ্নেও। ইমরান এবং তাঁর বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার তাঁকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুললেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কীর্তি সোমাইয়া। ইমরান OCI কার্ড হোল্ডার। তাই তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রাক্তন স্ত্রী অবন্তিকা মালিকের সঙ্গে ইমরানের এক সন্তানও রয়েছে। তাঁরা ভারতেই থাকেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্‌রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন ইমরান। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে দলটির কর্মসূচির সমর্থনে মুম্বাইয়েও বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, কর্মসূচিটির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে বিক্ষোভস্থল থেকে চার শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইমরান খানের বান্ধবী লেখাহ ওয়াশিংটন ও তাঁর কাজিন জাইন মেরি খানও। আটক হওয়ার আগে ইমরান সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোনো নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে তিনি সেখানে যাননি। মুম্বাইয়ের একজন নাগরিক হিসেবে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কেন সীমিত করা হচ্ছে এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর কেন দমন করা হচ্ছে, তা জানতে ও প্রতিবাদ জানাতেই তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন। কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানান অভিনেতা।
ইমরানের জন্ম আমেরিকার ম্যাডিসন, উইসকনসিনে। তিনি Overseas Citizen of India বা OCI কার্ড হোল্ডার। ২০০৫ সালে OCI কার্ড চালু হয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্যই চালু হয় ওই কার্ড। OCI কার্ড পাওয়ার অর্থ ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাওয়া নয়। বরং OCI কার্ড থাকলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, যার মধ্যে অন্যতম হল, জীবনভর, বার বার ভারতে ঢোকার ভিসা। পাশাপাশি, শিক্ষা, সম্পত্তি এবং কাজকর্মের সুবিধাও তার অন্তর্ভুক্ত। তবে ভারতে ভোটদান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অন্য নাগরিকদের মতো রাজনৈতিক অধিকার নেই তাঁদের।
সেই OCI কার্ডের অধিকারী ইমরান। শনিবার মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে পথে নেমেছিলেন তিনি। আন্দোলন থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে ছেড়েও দেওয়া হয়। তবে একদিন আগে মুম্বই পুলিশ ইমরানের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অনুচ্ছেদ ২২৩ (নির্দেশ অমান্য), ১২৬ (২) (অন্যায় ভাবে বাধাদান), ১৮৯ (২) (বেআইনি জমায়েত), ১৮৯ (৩) এবং ১৮৯ (৫)-এ মামলা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। এর পরই ইমরানকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি করেন বিজেপি নেতা কীর্তি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিক্ষোভ বা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য কি OCI কার্ড হোল্ডারদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যেতে পারে? OCI সংক্রান্ত নিয়মকানুনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দেওয়া নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা নেই। উল্লেখ নেই আগে থেকে অনুমতি নেওয়ারও। তবে তার অর্থ এই নয় যে তাঁদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ অনুমোদিত। নাগরিকত্ব আইনের ৭-বি ধারা অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট কিছু অধিকার OCI কার়্ধারীদের উপর প্রযোজ্য নয়। তবে ভোটদান এবং নির্বাচিত পদে আসীন হওয়ায় যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার দ্বারা আন্দোলন বা বিক্ষোভে শামিল হওয়া বেআইনি এমনও নয়।
সংবিধানে বাক স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ জমায়েতের সুনিশ্চিতকারী যে অনুচ্ছেদ ১৯ রয়েছে, তাতেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। ওই অধিকারগুলি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ। বিদেশি নাগরিক হিসেবে OCI কার্ডধারী ব্যক্তি সাধারণ নাগরিকদের মতো সেই অধিকারগুলি দাবি করতে পারেন না।
অন্য দিকে, OCI কার্ডধারীরা বিদেশি নাগরিক হিসেবেই গণ্য হন। বিদেশি এবং অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত আইনের আওতায় পড়েন তাঁরা। নাগরিকত্ব আইনের ৭-ডি ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু কারণেই OCI-এর নথিভুক্তি বাতিল হতে পারে, যার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। কোনও অভিযোগ বা ভিসা সংক্রান্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা পড়লেই অপরাধ প্রমাণ হয় না। ফলে তার দরুণ দেশ থেকে বহিষ্কার করার যুক্তিও খাটে না সাধারণত।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments