মুস্তাফিজুর রহমান রুম্মন, ঢাকা রিপোর্টার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে রূপান্তরিত করে July Mass Uprising Memorial Museum বা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ছাত্রজনতার বিক্ষোভের মুখে দু’বছর আগে ০৫ আগষ্ট বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। চলে আসেন ভারতে। দিল্লিতেই সাময়িক আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এ বার তাঁর সরকারি বাসভবন ‘গণভবনে’ খোলা হল জাদুঘর। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন তুলে ধরা হয়েছে এখানে। নাম রাখা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বুধবার এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ। বিক্ষোভ দমাতে সে দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন হাসিনা সরকার যে কঠোর নীতি প্রয়োগ করেছিল, তাতে ১৪০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকার শেরেবাংলায় গণভবনে আছড়ে পড়েছিল জনরোষ। লুট হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। জামাকাপড় থেকে শুরু করে টেবিল, চেয়ার, প্রিন্টার, কম্পিউটারের সিপিইউ কিছুই বাদ যায়নি। পরে অবশ্য তার মধ্যে অনেক কিছু ফেরতও এসেছিল। এ বার জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিতে সেই গণভবনেই চালু হল জাদুঘর।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এই জাদুঘর তৈরি হয়েছিল। তবে তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এত দিন হয়ে ওঠেনি। বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। পরে আওয়ামী লীগ জমানার গুম-খুনের অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি। আশ্বাস দেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ বিচার হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না। এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে।” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই জাদুঘর কোনও একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনও একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনতা।”
-
উদ্বোধনের বিস্তারিত তথ্যঃ
- উদ্বোধক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ আগস্ট ২০২৬ সকালে নামফলক উন্মোচন করে জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।
- উপস্থিতি: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
- জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত: উদ্বোধনের পরের দিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করা হয়।


