বাড়িআন্তর্জাতিকশেখ হাসিনার ইন্টারেকশন আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই: রণধীর

শেখ হাসিনার ইন্টারেকশন আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই: রণধীর

অভিজিৎ মূখার্জী, সিনিয়র রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের (ইন্টারেকশন) সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা আয়োজন করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রণধীর জয়সোয়াল আরও বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র বলেন, শেখ হাসিনার ইন্টারেকশন একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা আয়োজন করছে। ভারত সরকারের এই আয়োজনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ভারত সরকার ওই মঞ্চ থেকে উত্থাপিত বক্তব্য সমর্থনও করে না। তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
এরআগে সোমবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, “পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।” ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি ‘যথাযথভাবে বিবেচনা করে’ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন বলে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বিমসটেক সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ প্রসঙ্গঃ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবেই ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছে দিল্লি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জিতে তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তখনই একবার তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায় ভারত। এবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আঞ্চলিক জোটগুলোর চেয়ারম্যানদের আমন্ত্রণ জানানোর যে প্রচলিত রেওয়াজ রয়েছে, সে অনুযায়ি বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গঙ্গার পানিচুক্তিঃ

ব্রিফিংয়ে গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। বলা হয়, এ-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি চুক্তি নবায়নে উদ্যোগী হতে বলেছে। জবাবে জয়সোয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী প্রবাহিত। নদীগুলোর পানিবণ্টন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য রয়েছে যুগ্ম নদী কমিশন। তা ছাড়া রয়েছে নানাবিধ দ্বিপক্ষীয় কার্যপদ্ধতি ও বিভিন্ন কারিগরি পর্যায়ের কমিটি, যা গঙ্গা পানিচুক্তি আলোচনাকে সাহায্য করে থাকে। তিনি বলেন, এই কার্যপদ্ধতি অনুযায়ীই গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments