বি এম শফিকুল ইসলাম টিটু, সিনিয়র চীফ রিপোর্টার: এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও একজন জাতীয় সংসদ সদস্য। এস এম জাহাঙ্গীর ১ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করে তিনি তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য হন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। একই বছরে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরের বছর তিনি কলেজটির ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ছাত্রসংগঠনটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তার বিরুদ্ধে একজনকে হত্যার মামলা দেওয়া হলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে চলে যান। ২০০১ সালে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিকভাবে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী ছিলেন। ২০০০-এর দশকের প্রথমদিকে তিনি কিছু সময়ের জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশ চলে যান। তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগ দেন। এক এগারোর সময়ে তিনি ২০০৭ ও ২০০৮ সালে আবার আত্মগোপনে চলে যান। ২০১০ সালে তিনি একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। তিনি এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার গঠিত আংশিক কমিটিতে জাহাঙ্গীরকে সভাপতি নিযুক্ত করে এক মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি নতুন দায়িত্বের সাথে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে থাকায় শীঘ্রই নতুন দায়িত্ব থেকে সরে যান।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৮ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়ান।

২০২০ সালে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনের মৃত্যু হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়। এর ফলে আসনটিতে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়।[৭] উপনির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২৩ সালে দশ বছর পূর্বে উত্তরা পূর্ব থানায় করা একটি মামলার রায় অনুযায়ী তিনি সহ অভিযুক্ত ৭৩ জনের জন্য আদালত ৭ বছরের জন্য কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীর শিক্ষার্থীদের সমর্থন করেন এবং ঢাকার উত্তরা থেকে নিয়মিত আন্দোলনে যোগ দিতে থাকেন। ফলে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং তার বাড়ি আক্রমণের শিকার হয়। আন্দোলনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয় যার ফলে ৫ আগস্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাহাঙ্গীর কারাগার থেকে মুক্তি পান। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় পর্যায়ে তার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্তরে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে থাকেন। ছাড়া পাওয়ার পরপরই তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় ২০২৫ সালে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনা সহ ৮২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তার দল তাকে আবার মনোনয়ন দেয় এবং তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৮ আসনের জন্য নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আরিফুল ইসলামের চেয়ে প্রায় ৩৩,০০০ ভোট বেশি পেয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সরকারের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন নেতা। তাই তার জীবনে সঙ্গী হয়েছিলো কারাগার। ১২ মাসের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হাসিনা সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাগার আর কোর্টে। আর বাইরে থাকলেও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া হাজিরা দিতে কোর্টের বারান্দায় কেটেছে দিন। তবুও অবিচল ছিলো জিয়ার আদর্শে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে ৩২৯টি মামলা রয়েছে। যা দলে মামলার দিক থেকে তৃতীয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এসএম জাহাঙ্গীর ১৯৮৮ সালে তেজগাঁও কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। সামরিক সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৯০ সালে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তেজগাঁও কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে ছাত্রদলের পিন্টু-নিরবের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি,২০১০ সালে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক, ২০১০ সালে যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীতে ২০১৭ সালে যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এসএম জাহাঙ্গীর। এছাড়াও ছাত্রদল এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন সময় সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ সময় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজনীতিতে এই ত্যাগের স্বীকৃতিও মেলে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি ঢাকা-১৮ আসনে,পরবর্তীতে এই আসনের উপ-নির্বাচনেও পরপর দুইবার এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়। এসএম জাহাঙ্গীরের জন্ম ঢাকাতেই। এই শহরেই লেখাপড়া। শহরের আলো-ছায়ায় বেড়ে ওঠা।১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায়।ওই সময় ছাত্রদলের হয়ে হরতালের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তেজগাঁও এলাকা থেকে প্রথমবারের মতো আটক হন তিনি। এক মাস কারা ভোগের পর মুক্তি পান। ওই বছরই আরও একটি হত্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়। প্রাণভয়ে তখন ফেরারি জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন এসএম জাহাঙ্গীর। ২০০৭-২০০৮ সালে এক-এগারোর সময় সেনা সমর্থিত সরকারের দুই বছরও তাকে জীবন বাঁচাতে এখানে-ওখানে পালিয়ে বেড়াতে হয়। এই পালিয়ে বেড়ানো আর ফেরারি জীবন শেখ হাসিনার শাসনামলেও অব্যাহত ছিলো। একের পর এক মামলা,আটক,জামিন,আবার আটক-এভাবেই কেটে গেছে দিনের পর দিন। গুম হতে পারেন-এমন খবর পাওয়ার পর স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পরিবারের বাকি সদস্যদের ফেলে রেখে একটি অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে ছিলেন একটানা ছয় মাস। ২০১২ সালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আটক হন এসএম জাহাঙ্গীর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে টানা আট মাস কারাগারে ছিলেন তিনিও। ২০১৮ সালে আরেকটি সাজানো মামলায় গভীর রাতে আদালত বসিয়ে তার বিরুদ্ধে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে আরেকটি মামলায় আটক হন। দেওয়া হয় আড়াই বছরের কারাদণ্ড। ওই মামলায় টানা এক বছর কারাগারে ছিলেন এসএম জাহাঙ্গীর।
আমাদের পাঠক ও ভিউয়ারদের কথা চিন্তা করে নিম্নে ভিডিও টি ব্রডকাস্ট করা হলো:



