বাড়িজলবায়ু ও পরিবেশবঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস

আবহাওয়া ডেক্স রিপোর্ট: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ০৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। বেলা ১১টার দিকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। দিনের বিভিন্ন সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর কিছু এলাকায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে ০৭ আগস্ট পর্যন্তও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুদিন তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকার পাঁচ জেলায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ১১ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সোমবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুদিন তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী তিন দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ, ধরলা অববাহিকার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া এবং সোমেশ্বরী ও ভোগাই-কংস অববাহিকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে পানি সতর্কসীমা বা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে এসব এলাকার নিচু অঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়লে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments